বাংলাদেশে সরকারি ব্যাংক কয়টি কি কি

 

বাংলাদেশে সরকারি ব্যাংক কয়টি কি কি? এই প্রশ্নটি ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে চাকরি সহ আরো অন্যান্য সকল পরীক্ষায় প্রায়ই এসে থাকে। যার সঠিক উত্তর আমরা অনেকেই জানিনা। এছাড়াও একজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে কয়টি সরকারি ব্যাংক রয়েছে তা জেনে রাখাও উচিত। যাইহোক আপনাদের মাঝে যারা বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংক কয়টি কি কি এই সম্পর্কে জানেনা। তাদের জন্যই মূলত আজকের এই পোস্টটি।

বাংলাদেশে সরকারি ব্যাংক কয়টি কি কি

কেননা আজকের এই পোস্টটিতে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকগুলো নিয়ে আলোচনা করব। যেখানে আলোচনায় থাকবে ব্যাংক কাকে বলে, সরকারি ব্যাংক কাকে বলে, বাংলাদেশের প্রথম সরকারি ব্যাংক কোনটি, বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংক কয়টি কি কি ইত্যাদি সব প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে। তাই আপনি যদি এই সকল প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই সম্পন্ন পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

ব্যাংক কাকে বলে?

ব্যাংক শব্দটি একটি ইংরেজি শব্দ যার আভিধানিক অর্থ হলো লম্বা টুল, কুল, ধনভান্ডার, ক্ষেতের আইল ইত্যাদি। ব্যাংক শব্দটি জার্মানি শব্দ Banke এবং ইটালিয় শব্দ Banco থেকে উৎপত্তি হয়েছে। এখন ব্যাংক কাকে বলে এই প্রসঙ্গে আসি। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ব্যাংক হল এক ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা সাধারন মানুষ সঞ্চিত অর্থ এবং কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে মূলধন গড়ে তোলে এবং সেই মূলধন বিভিন্ন ব্যবসায়ীদেরকে ঋণ হিসেবে প্রদান করে।

আরো পড়ুনঃ গ্রামীণ ব্যাংকের সুযোগ সুবিধা  

এই কর্মপ্রক্রিয়ায় ব্যাংক আমানত সরবরাহকারীকে বিভিন্ন হারে সুদ প্রদান করে এবং ঋণগ্রহণকারীর কাছ থেকে সুদ আদায় করে। এছাড়াও কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যাংক নিজেই ব্যবসায় বিনিয়োগ করে সেখান থেকে মুনাফা অর্জন করে। আবার অন্যভাবে যদি ব্যাংকের সংজ্ঞায়িত করি তাহলে ব্যাংক হল একটি মধ্যস্থতাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা জনগণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে নগদ অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে নিজেদের মূলধন গড়ে তোলে এবং সেই মূলধন অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরকে ঋণ হিসেবে প্রদান করে।

সরকারি ব্যাংক কাকে বলে?

এতক্ষণ আমরা ব্যাংক কাকে বলে সেই বিষয়টি সম্পর্কে জানলাম। এ পর্যায়ে আমরা সরকারি ব্যাংক কাকে বলে এই বিষয়টি সম্পর্কে জানব। সরকারি ব্যাংক বলতে সাধারণত সেই সকল ব্যাংকগুলোকে বোঝায় যেগুলোর মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সরকারের হাতে থাকে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোকেই সাধারণত সরকারি ব্যাংক বলা হয়। সরকারি ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের জনগণের আর্থিক সেবা প্রদান করা, অর্থনীতির উন্নয়ন করা এবং সরকার নীতিমালা বাস্তবায়ন করা।

বাংলাদেশের প্রথম সরকারি ব্যাংক কোনটি?

বাংলাদেশের প্রথম সরকারি ব্যাংক কোনটি? বাংলাদেশের প্রথম সরকারি ব্যাংক হলো সোনালী ব্যাংক লিমিটেড (Sonali Bank Limited)। এটি ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে "ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান" "ব্যাংক অব ভোলা" এবং "প্রিমিয়াম ব্যাংক" এই তিনটি ব্যাংক মিলে সোনালী ব্যাংক গঠিত হয়েছিল। এরপর দেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশের প্রথম সরকারি ব্যাংক হিসেবে এটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলির একটি।

বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাংক কয়টি?

বাংলাদেশ ব্যাংক সমূহকে মূলত দুটি শ্রেণিতে নিজে ভাগ করা হয়েছে। একটি হলো তফসিলি বা তালিকাভুক্ত ব্যাংক অন্যটি হলো অ-তফসিলি বা অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশে এই তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত মিলে সর্বমোট ৬৬ টি ব্যাংক রয়েছে। যার মধ্য তালিকাভুক্ত ব্যাংক হল ৬২টি এবং অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক হল ৫টি। 

আরো পড়ুনঃ গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি

৬১টি তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৬টি রাষ্ট্রয়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৪৪টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৩টি বিশেষায়িত ব্যাংক, ১টি ডিজিটাল ব্যাংক (নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি) এবং ৯টি বিদেশী ব্যাংক রয়েছে।

বাংলাদেশে সরকারি ব্যাংক কয়টি কি কি

বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংক কয়টি? বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংক বা রাষ্ট্রয়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৬টি। ব্যাংকগুলো হল

  • সোনালী ব্যাংক পিএলসি
  • রূপালী ব্যাংক পিএলসি
  • জনতা ব্যাংক পিএলসি
  • অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি
  • বেসিক ব্যাংক পিএলসি
  • বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি

উপরে উল্লেখিত ব্যাংকগুলো সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলো-

সোনালী ব্যাংক পিএলসি

  • প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৭২ ইং. ১৬ই ডিসেম্বর।
  • ব্যাংকিং শাখা- ১২৩১ টি।
  • হেডঅফিস- মতিঝিল,ঢাকা।
  • ধরণ- পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
  • সেবা- ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক।
  • ব্যবসায় অঞ্চল- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক।
  • বর্তমান অনুমোদিত মূলধন- ১০ বিলিয়ন টাকা।
  • পরিশোধিত মূলধন- ৯ বিলিয়ন টাকা।

আরো পড়ুনঃ আশা ও ব্র্যাক এনজিও লোন পদ্ধতি

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- সোনালী ব্যাংক ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তিনটি ব্যাংকের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ব্যাংক তিনটি হলো "ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান" ব্যাংক অফ ভোলা" এবং "প্রিমিয়ার ব্যাংক"। বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংক সমূহের মধ্যে সর্ব বৃহত্তর বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে পরিচিত এই সোনালী ব্যাংক পিএলসি। এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সোনালী ব্যাংক নাম সোনালী ব্যাংক নামে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তেসরা জুন মাসের নাম পরিবর্তন করে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এ নিবন্ধিত করা হয়। এরপর আবার বাংলাদেশ কোম্পানি আইন অনুসারে ২০২৩ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি পুনরায় নাম পরিবর্তন করে সোনালী ব্যাংক পিএলসি করা হয়।

রূপালী ব্যাংক পিএলসি

  • প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ।
  • ব্যাংকিং শাখা- ৫৮৬ টি।
  • ধরণ- পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
  • হেডঅফিস- ৩৪, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা।
  • সেবা- ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক।
  • ব্যবসায় অঞ্চল- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক।
  • বর্তমান অনুমোদিত মূলধন- ৭০০০ মিলিয়ন টাকা।
  • পরিশোধিত মূলধন- ৪১৪২ মিলিয়ন টাকা।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর ১৯৭২ সালের ২৬ শে মার্চ রূপালী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের অধ্যাদেশ ১৯৭২ এর অধীনে চারটি জাতীয়কৃত ব্যাংকের মধ্যে একটি। রূপালী ব্যাংকের পূর্বসূরী ছিল পূর্ব পাকিস্তানের কার্যত মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক, অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। মূলত এই তিনটি ব্যাংকের মূলধন ও দায় নিয়েই এই ব্যাংকটি পুনর্গঠিত হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের ১৪ই ডিসেম্বর অফিসিয়ালি ভাবে ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করে রূপালী ব্যাংক পিএলসি নামকরণ করা হয়।

জনতা ব্যাংক পিএলসি

  • প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৭২ সালের ১৫ নভেম্বর।
  • ব্যাংকিং শাখা- ৯২১ টি।
  • ধরণ- পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
  • হেডঅফিস- মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা।
  • সেবা- ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক।
  • ব্যবসায় অঞ্চল- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক।
  • বর্তমান অনুমোদিত মূলধন- ৩০,০০০ মিলিয়ন টাকা।
  • পরিশোধিত মূলধন- ২৩,১৪০ মিলিয়ন টাকা।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- ১৯৭২ সালের ১৫ই নভেম্বর দুটি ব্যাংকের সমন্বয়ে জনতা ব্যাংক পিএলসি গঠিত হয়। ব্যাংক দুটি হল ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড এবং ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে পরিচিত এই জনতা ব্যাংক পিএলসি।

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি

  • প্রতিষ্ঠাকাল- ২৬ মার্চ ১৯৭২ ইং.।
  • ব্যাংকিং শাখা- ৯৭০ টি।
  • ধরণ- পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
  • হেডঅফিস- দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা।
  • সেবা- ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক।
  • ব্যবসায় অঞ্চল- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক।
  • বর্তমান অনুমোদিত মূলধন- ২৫,০০০ কোটি টাকা।
  • পরিশোধিত মূলধন- ২৮,৬৩৫.৩৩ কোটি।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশে সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় কোন ব্যাংক

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৬ শে মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের অবশিষ্ট দুটি ব্যাংকের মূলধন ও দায় নিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের যাত্রা শুরু। ব্যাংক দুটি হলো হাবিব ব্যাংক লিমিটেড এবং কমার্স ব্যাংক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এই ব্যাংকটি অগ্রণী ব্যাংক নামে আত্মপ্রকাশ করলেও ২০০৭ সালে ১৭ই মে ব্যাংকটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৪ই অক্টোবর পুনরায় ব্যাংকটি নাম পরিবর্তন করে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি রূপান্তরিত হয়।

বেসিক ব্যাংক পিএলসি

  • প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৮৮ ইং. ০২ আগস্ট।
  • ব্যাংকিং শাখা- ৭২ টি।
  • ধরণ- পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
  • হেডঅফিস- মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা।
  • সেবা- ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক।
  • ব্যবসায় অঞ্চল- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক।
  • বর্তমান অনুমোদিত মূলধন- ৫৫,০০০.০০ মিলিয়ন টাকা।
  • পরিশোধিত মূলধন- ১০,৮৪৬.৯৮ মিলিয়ন টাকা।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- ১৯৮৮ সালে ২ই আগস্ট এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও ব্যাংকটি মূল কার্যক্রম শুরু করে ১৯৮৯ সালের ২১শে জানুয়ারি হতে। প্রথম দিকে যখন এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত লাভ করে তখন এই ব্যাংকের ৭০% মালিকানা ছিল বিসিসিআই ফাউন্ডেশনের হাতে এবং বাকি ৩০% রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ৪ই জুন ব্যাংকটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চলে আসে তবে তখনো কিন্তু জাতীয়করণ করা হয়েছিল না।তবে বর্তমানে ব্যাংকটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি

  • প্রতিষ্ঠাকাল- ২০০৯ ইং. ৩১শে ডিসেম্বর।
  • ব্যাংকিং শাখা- ৫০ টি।
  • ধরণ- পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
  • হেডঅফিস- রাজউক এভিনিউ, ঢাকা।
  • সেবা- ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক।
  • ব্যবসায় অঞ্চল- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক।
  • বর্তমান অনুমোদিত মূলধন- ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
  • পরিশোধিত মূলধন- ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ২০০৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম সরকারি মালিকানাধীন উন্নয়ন ব্যাংক। বিডিবিএল ব্যাংক বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (বিএসবি) এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা (বিএসআরএস) কি একীভূত করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংক কয়টি কি কি

বেসরকারি ব্যাংক বলতে মূলত সেই সকল ব্যাংকে বুঝায় যার বেশিরভাগ বা সমস্ত শেয়ার বা মালিকানা কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৪৩ টির মত বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। যার মধ্য ৩৩ টি প্রথাগত ব্যাংক এবং ১০ টি ইসলামিক শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক রয়েছে। নিম্নে ব্যাংকগুলোর নাম তালিকা আকারে তুলে ধরা হলো।

  1. উত্তরা ব্যাংক পিএলসি - শাখা ২৪৫ টি
  2. এবি ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১০৪ টি
  3. পূবালী ব্যাংক পিএলসি - শাখা ৪৯৮ টি
  4. আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৭০ টি
  5. সিটি ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৩২ টি
  6. ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড - শাখা ২২১ টি
  7. ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি - শাখা ২২৪ টি
  8. এনসিসি ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১২১ টি
  9. ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি - শাখা ২৩৮ টি
  10. ঢাকা ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১০৯ টি
  11. ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি - শাখা ৮৫ টি
  12. প্রাইম ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৪৬ টি
  13. সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৩৭ টি
  14. বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড - শাখা ৬৭ টি
  15. মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১১৯ টি
  16. ওয়ান ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১১১ টি
  17. প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১১৬ টি
  18. ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড - শাখা ১৩৫ টি
  19. ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড - শাখা ১১৪ টি
  20. মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৫১ টি
  21. যমুনা ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৫৩ টি
  22. ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৮৭ টি
  23. এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি - শাখা ৭৫ টি
  24. পদ্মা ব্যাংক পিএলসি - শাখা ৫৭ টি
  25. এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড - শাখা ৪৬ টি
  26. মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড - শাখা ২৩ টি
  27. মেঘনা ব্যাংক পিএলসি - শাখা ৪৭ টি
  28. মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড - শাখা ৩৪ টি
  29. এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি - শাখা ৮৮ টি
  30. কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি - শাখা ১০ টি
  31. সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৮ টি
  32. বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৪ টি
  33. সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি 

আরো পড়ুনঃ ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্ট করতে কি কি লাগবে

বাকি ১০ টি ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামিক শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো হল।

  1. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি - শাখা ৩৪৯ টি
  2. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি - শাখা ২০৯ টি
  3. এক্সিম ব্যাংক (বাংলাদেশ) - শাখা ১৩১ টি
  4. স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৩৮ টি
  5. ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি - শাখা ৯০ টি
  6. আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড - শাখা ৩৩ টি
  7. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৭৯ টি
  8. ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৮৪ টি
  9. শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি - শাখা ১৩৪ টি
  10. গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি - শাখা ৬৯ টি

বাংলাদেশে অ-তফসিলি ব্যাংক কয়টি ও কি কি

বর্তমানে বাংলাদেশে অ-তফসিলি ব্যাংক রয়েছে ৫টি। ব্যাংকগুলো হল-

  1. গ্রামীণ ব্যাংক - শাখা ২৫৬৮ টি
  2. কর্মসংস্থান ব্যাংক - শাখা ২৪৫ টি
  3. জুবিলী ব্যাংক - শাখা ১ টি
  4. আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক - শাখা ২৩৩ টি
  5. পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক - শাখা ৪৮৫ টি

বাংলাদেশে বিশেষায়িত ব্যাংক কয়টি ও কি কি

বাংলাদেশের বর্তমানে ৪টিবিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে যেগুলোর মালিকানা সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের হাতে। এই ব্যাংক ৪টি আলাদা আলাদা বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য গঠন করা হয়েছে। নিম্নে ৪টি বিশেষায়িত ব্যাংকের নাম তুলে ধরা হলো।

  1. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক - শাখা ১০৩৮ টি
  2. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক - শাখা ১০০ টি
  3. রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক - শাখা ৩৮৪ টি
  4. কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি - শাখা ৬৭ টি

বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংক কয়টি ও কি কি

বাংলাদেশের বর্তমানে ৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। যেগুলো নিম্নে তালিকা আকারে তুলে ধরা হলো।
  1. ব্যাংক আলফালাহ্ - শাখা ৮ টি
  2. সিটিব্যাংক এনএ - শাখা ৩ টি
  3. কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন - শাখা ১৪ টি
  4. এইচএসবিসি - শাখা ৭ টি
  5. হাবিব ব্যাংক লিমিটেড - শাখা ৭ টি
  6. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ - শাখা ২৩ টি
  7. ভারতীয় স্টেট ব্যাংক - শাখা ৬ টি
  8. ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান - শাখা ৪ টি
  9. উরি ব্যাংক - শাখা ৬ টি

উপসংহার

প্রিয় পাঠক বৃন্দ, এতক্ষণ আমরা বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংক কয়টি ও কি কি সেই বিষয়টি সহ বাংলাদেশে অবস্থিত আরও বিভিন্ন ব্যাংক গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। দেখুন, ব্যাংক মূলত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনকে সহজলভ্য করতে মধ্যস্তাকারী হিসেবে কাজ করে। আর বর্তমান সময়ে যেহেতু নগদ অর্থ বহন করা ঝুঁকিপূর্ণ বা অনেকটা ঝামেলাযুক্ত সেহেতু আমাদের প্রত্যেকেরই ব্যাংকে একাউন্ট থাকা দরকার। ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হলে অবশ্যই আপনাকে ব্যাংক গুলো সম্পর্কে জানতে হবে। যা আপনারা আশাকরি আজকের এই পোস্টটি থেকে জানতে পেরেছেন। আর ব্যাংকে আপনার একটি একাউন্ট থাকলে আপনি পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকেই লেনদেন করতে পারবেন। 

পরিশেষে বলতে চায়, আজকের এই পোস্টটি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতজনদেরকে এই পোস্টটি শেয়ার করে তাদেরকেও পড়ার সুযোগ করে দিবেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ব্লগার মামুন ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

Share this post with your friends

See Next Post
No one has commented on this post yet
Click here to comment

Please comment according to Blogger Mamun website policy. Every comment is reviewed.

comment url