নভেম্বরের শেষ দিকে ডিসেম্বরের প্রথম দিক মিলিয়ে গিয়েছিলাম বান্দরবন [এখনো বান্দর দেখিনাই আফসুস] ২০১০ এর দিকে একবার বান্দরবন যাওয়া হয়েছিলো সেই ভ্রমণের
বিস্তারিত পাবেন এই লিংকে
এবারের ট্যুরটা ছিলো মেগা ট্যুর আমাদের প্ল্যান ছিলো বগালেক দিয়ে প্রবেশ করবো তারপর কেওক্রাডাং,সাকাহাফং,আমিয়াখুম,নাফাখুম ,বড়পাথুরিয়া দেখে থানচি দিয়ে বের হবো সোজা হিসেবে রুমা দিয়ে ইন হবো আর থানচি দিয়ে আউট হবো । ইনশাল্লাহ আল্লাহর রহমতে ছয়দিনে সবগুলো লোকেশন দেখে আমরা ফিরে আসতে পেরেছি ।
এক পোস্টে সবগুলো লিখা সম্ভব না তাই আলাদা আলাদা লিখবো আজকে লিখবো আমার দেখা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্টাইলিশ আর সুন্দর ঝরনা আমিয়াখুম নিয়ে..........
আমিয়াখুম ঝরনা যাওয়ার পথেই পুরো বান্দরবনের একটা প্রতিচ্ছবি পাবেন বড় পাথুরিয়ার মত বড় বড় পাথর,অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য ,ছোট ছোট ঝরনা সবই পাবেন এখানে ।
কিভাবে যাবেন : আমাদের রাস্তাটা ছিলো অন্য ভাবে রুমা বাজার দিয়ে প্রবেশ করে প্রায় চারদিন হাটার পর এসে পৌছেছি সাজিয়াপাড়া সেখান থেকে আমিয়াখুম দেখে আবার সাজিয়াপাড়া ফিরে এসেছি । আমি আপনাদের জন্য সহজ রাস্তাটাই বলে দিচ্ছি ।
দেশের যেকোন প্রান্ত হতেই রওয়ানা দিয়ে বান্দরবন আসুন তারপর বান্দরবন থানচি যাবার বাসস্ট্যান্ডে চলে আসুন সেখান থেকে বাসে করে থানচি চলে আসুন,থানচি আসতে প্রায় ৪/৫ ঘন্টার মতো লাগে ।
থানচি নেমে প্রধান কাজ হলো একজন গাইড ঠিক করা । এবার থানচি থেকে নৌকা নিয়ে রোমাক্রি বাজার আসুন ,থানচি থেকে রোমাক্রি স্হানিয়রা প্রতিজন ২০০ টাকা করে তবে টুরিষ্টদের দেখলে রিজার্ভ ৩০০০/৪০০০ হয়ে যায় । যদি থানচি থেকে সকাল সকাল রওয়ানা দেন তাহলে রোমাক্রি নেমে আল্লাহর নাম নিয়ে হাটা ধরুন নাফাখুম ঝরনার উদ্দেশ্য প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘন্টা হাটলে আপনারা দেখা যাবেন অসাধারণ এক ঝরনা ""নাফাখুম "" অনেকে আবার আদর করে একে বাংলার নায়াগ্রা নাম দিয়েছে । যাই হোক এখানে ছবি তুলে কিছু ক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে এবার সাজাই পাড়ার দিকে রওয়ানা হয়ে যান । {নাফাখুম নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট পাবেন কয়েকদিন পর }
নাফাখুম ঝরনা থেকে হাটা শুরু করলে ৩/৪ টা ঘন্টার মধ্যেই আপনারা পৌছে যাবেন সাজিয়াপাড়া :) সাজিয়াপাড়াতে রাতটুকু কাটিয়ে পরদিন সকাল সকাল উঠে পড়ুন এবং সাজিয়াপাড়া থেকে একজন স্হানীয় গাইড নিয়ে রওয়ানা হয়ে যান আমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে [গাইডকে ৫০০ টাকা দিতে হবে]
প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিনঘন্টা অসাধারণ সব রাস্তা দিয়ে হাটলেই পেয়ে যাবেন আমিয়াখুম ঝরনা । আমিয়াখুম মনমতো দেখে আবার ফিরে আসুন সাজিয়াপাড়া , রাতটুকু সাজিয়াপাড়া কাটিয়ে সকালে আবার আগের রাস্তায় ফিরে আসুন থানচিতে সেখান থেকে আপনার প্রিয় বাড়ীতে যেখানে আপনার মা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে :p
বাংলা রচনার মতো করে কিভাবে যাবেন লিখে দিয়েছি এবার চলুন ছবিতে ঘুরে আসি অসাধারণ "আমিয়াখুম ঝরনা "
 |
| সাজিয়াপাড়াতে আমাদের দল |
 |
| আমিয়াখুমের পথে ভাইরে কেন জানি এই পাহাড়টা উঠতে খবর হয়ে গেছিলো :( |
 |
| পাহাড় থেকে নেমে এবার এমন ঝিরি পথে হাটা শুরু |
 |
| নিজের চোখে যখন এই জায়গাটা দেখবেন নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হবে যে আপনি এখানে আসতে পেরেছেন এক কথায় অসাধারণ |
 |
| স্রোত ছিলো প্রচন্ড সাহস করে মারলাম এক লাফ |
 |
| অসাধারণ |
 |
| এমন সব দুগর্ম রাস্তা দিয়ে হাটতে হবে আপনাকে |
 |
| পানি প্রচন্ড ঠান্ডা :( আমদের গাইড একটা রশি বেধে দিয়েছে পাথরের সাথে সেই রশি ধরে ধরে আস্তে আস্তে পানিতে নেমে গেলাম তারপর সাতার কেটে এই জায়াগাটা পার হতে হলো |
 |
| কিছুক্ষণ সাতার কাটার পর এই বাশের ভেলাটা পেলাম তারপর ভেলাতে চড়ে রওয়ানা হলাম |
 |
| অবশেষে আমিয়াখুমের ঝরনার সেক্সি হট মুখ দেখলাম |
 |
| অসাধারন এক ঝরনা আমিয়াখুম যখন আপনি ঝরনার সামনে দাড়াবেন তখনকার অনুভুতিটা সারাজীবন মনে থাকবে |
 |
| আমিয়াখুম ঝরনা |
 |
| স্টাইলিশ আমিয়াখূম |
 |
| আমিয়াখুম ঝরনার একটু সামনে গেলেই এমন বড় বড় সব পাথর দেখতে পাবেন ইচ্ছা করলে এক পাথর থেকে অন্য পাথরে লাফ দিয়ে যেতে পারবেন তবে হাত পা ভাঙ্গলে কিন্তু আমি দায়ী নই |
 |
| অবশেষে ব্লগার বিল্লাহ মামুনের একটি ছবি দিয়ে লেখা শেষ করলাম |
মোটামুটি সবই লিখে দিয়েছি সময় করে চলে যান আমিয়াখুম ঝরনা দেখতে কোন হেল্প লাগলে কমেন্টস করুন অথবা
আমাকে ফেইসবুকে নক করতে পারেন মুক্তকন্ঠে সাহায্য করবো:) ভালো থাকুন
কিছু তথ্য ::
#থানচি রেমাক্রি সাজিয়াপাড়া সব জায়গাতেই খুব কম টাকায় থাকা খাওয়ার ব্যবস্হা আছে
#মেয়েরা এখানে যেতে পারবে কিনা সেটা তার শারীরিক সক্ষমতার উপরে নির্ভর করে উপরের বর্ণণা থেকে নিজেরটা নিজে বুঝে নিন ।
[অবশেষে ছোট্র একটা অনুরোধ, যেখানেই ঘুরতে যান সেখানের পরিবেশের দিকে নজর রাখবেন শুধু আমরা দেখলেই হবেনা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এই জায়গাগুলো আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে ছোট্র একটা উদাহরণ দেই মনে করুন আপনি ছোট্র একটা বিস্কিটের প্যাকেট এবং পানির বোতল নিয়ে আমিয়াখুম গেলেন এখন যদি প্রতিবছর সেখানে ১০০০ জন পর্যটক যায় তাহলে দেখা গেলো এক হাজার বিষ্কিটের প্যাকেট এবং পানির বোতল এবার বুঝেন অবস্হা আমিয়াখুম ডাস্টবিন হতে বেশীদিন লাগবেনা সুতরাং মনে রাখবেন আপনার যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া একটা সিংগেল প্যাকেটও পরিবেশের বড় ক্ষতি করে দিতে পারে ।]
3 comments:
beautiful . :D
beautiful :D
Thank you sooooooooooo much to shear such a beauty of Bangladesh. Our beloved country.
Post a Comment